View Question 6017 views

Subject : রেকর্ড সংশোধনী মামলা নং-৫২/২০১২-১৩ (রামু)- নিয়ে আরও কত বছর প্রশাসনের হয়রানি ও জুলুম সয়ে যেতে হবে ?

Avatar

Written By : Mahbubur Rahman

রেকর্ড সংশোধনী মামলা নং-৫২/২০১২-২০১৩ (রামু)-নিয়ে আরো কত বছর প্রশাসনের হয়রানী ও জুলুম সয়ে যেতে হবে ?

মাননীয় সাংসদ,

প্রথমেই আপনার প্রতি বিনম্র সালাম পেশ করছি। আপনি বরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মরহুম জান্নাতবাসী পিতা জনাব, ওসমান সরওয়ার আলমের সুযোগ্য সন্তান। আপনার রক্তে মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদ রয়েছে বলেই মহান জাতীয় সংসদের একজন যোগ্য পার্লামেন্টেরিয়ান হিসেবে আপনি আমাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন। নিতান্ত মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়ে একটি রেকর্ড সংশোধনী মামলা নিষ্পত্তিতে আপনার হস্তক্ষেপের আশায় আমার এই আবেদন। একটি মামলা নিষ্পত্তি পূর্বক খতিয়ান সৃজনের উপর একটি পরিবারের যে অভাবমোচন, স্বপ্ন, আশা নির্ভরশীল তা আপনার সদয় বিবেচনার জন্য নিম্নে তুলে ধরলাম।

বহুবছর আগে আমার প্রবাসী শ্রমজীবী বাবার সঞ্চিত অর্থে রামু উপজেলায় আমার মা'র নামে কিছু জমি ক্রয় করা হয়। পরবর্তীতে জানা যায় উক্ত জমি বি.এস. জরীপের সময় আমার মা'র নামে না হয়ে সরকারের নামে রেকর্ড করা হয়। উক্ত জমিরি মালিকানা ও বি.এস.রেকর্ড যথাযথ না হবার কারণে ২০০৮ম সালে আমার পরিবার সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। প্রায় দীর্ঘ ০৪ (চার) বছর সরকারের সাথে দো-তরফা সূত্রে উক্ত মামলা প্রতিদ্বন্ধিতা করে ২০১২ সালে আমাদের পক্ষে বিজ্ঞ আদালতের রায়-ডিক্রি প্রাপ্ত হয। উক্ত রায়-ডিক্রি নিয়ে বিগত ০৭/০৮/২০১২ ইং তারিখ খতিয়ান সৃজনের আশায় রেকর্ড সংশোধনী মামলা নং-৫২/২০১২-২০১৩ (রামু)-দায়ের করা হয়।

উক্ত মামলায় বিজ্ঞ আদালতের রায়-ডিক্রি, মালিকানা ও সম্পত্তির ধারাবাহিক বিবরণ, সরেজমিনে আমাদের দখল, আর.এস ও বি.এস সীটের তুলনায়মূলক আলোচনা, উক্ত জমিতে সরকারের কোনরূপ স্বার্থ না থাকার বিষয় এবং সর্বোপরি আবেদনকারীকে উক্ত জমি সংক্রান্তে রেকর্ড সংশোধনী মঞ্জুরের পক্ষে প্রতিবেদন, মতামত ও প্রস্তাবনা পেশ করেন- ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (রামু), কানুনগো (রামু), সহাকারী কমিশনার (ভূমি) রামু, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কানুনগো, বিজ্ঞ জি.পি কক্সবাজার RDCএবং ADC(R)কক্সবাজার।

 

দীর্ঘ বহু বছর জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার মহোদয় ফাইলটি উনার কার্যালয়ে ফেলে রাখেন। আমি কোন সুপারিশ ও সুবিধা প্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় বিনা করণে পুনরায় উক্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত ও রেকর্ডে স্থিত কাগজপত্র সমূহ যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ADC(R) এর নিকট ফেরত প্রদান করেন। ADC(R) জেলা প্রশাসকের উক্ত আদেশ প্রাপ্ত হয়ে সরেজমিনে দখলে থাকার বিষয় তদন্ত ও কাগজপত্র যাচাই পূর্বক পুনরায় রেকর্ড সংশোধনী মঞ্জুরের প্রস্তাবে ফাইলি মাননীয় জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরণ করেন।

দ্বিতীয় বারের মতো প্রায় বছরেরও উর্ধ্ব সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ধর্ণা দিই আর খালি হাতে ফিরে আসতে আসতে একদিন দেখি বন্দোবস্ত সম্পর্কিত আরেকটি প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ফাইলটি সহকারী কমিশনার (ভূমি),রামু সাহেবের নিকট ফেরত দেয়া হয়েছে যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, অপ্রাসঙ্গিক এবং অপ্রয়োজনীয় একিটি অনুসন্ধান। শূরু হলো জুলুমের আরেক নতুন অধ্যায়। সহকারী কমিশনার (ভূমি)রামু, মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেণ-‍"উনার উপর নাকি জেলা প্রশাসকের নন-অফিসিয়ালি নির্দেশ আছে এভাবে কোন ফাইল প্রতিবেদনের জন্য ফেরত পাঠালে ঐ ফাইল যেন পুনরায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে না পাঠানো হয়" বিধায় বিভিন্ন বাহানায় তিনি প্রায় ০৬ (ছয়) মাসেরও উর্ধ্ব সময় প্রতিবেদন প্রদানে বিরত রয়েছেন।

নিম্ন মাধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান আমি। ইতিমধ্যেই এ ০৫(পাঁচ) বছরে প্রায় অনেক টাকা টেবিল-টেবিলে, কক্সবাজার হতে রামু যাতায়তে খরচ হয়ে গিয়েছে। প্রায় ৩৩ বছর আমার বয়স। অর্থাভাবে কোন পেশায় শুরু করতে পারছিনা। অগত্যা টিউশনি করে কোনরকম নিজের জীবনটাকে মানিয়ে নিচ্ছি।

বাবা-মা দু'জনেই বার্ধক্যে উপনিত হয়ে আর্থিক সংকটের কারণে বিনা চিকিৎসায় সূর্য উঠা আর ডুবার মুহুর্ত দেখছেন। উনাদের স্বপ্ন জীবদ্দশায় যদি আল্লাহর ঘর বায়তুল্লাহ এবং তার প্রিয় হাবিবের রওজা মোবারক দেখতে পারতেন, যদি জীবদ্দশায় উনাদের সন্তানদের স্বস্তিময় পরিস্থিতি দেখতে পারতেন। উনাদের সমস্ত স্বপ্নই আজ মাটি চাঁপা হয়ে আছে। আমাদের পরিবার সম্পূর্ণ নিষ্কস্কট জমি কেবল খতিয়ান না হবার কারণে বিক্রি করতে না পারায় চরম আর্থিক সংকটে দিনাতিপাত করছে। মাননীয় সাংসদ এ কেমন অমানবিক পরিস্থিতি, সম্পত্তি থাকা সত্তেও প্রশাসনের সামান্য সহযোগীতার অভাবে আমরা আমাদের প্রয়োজনে তা উপযুর্ক্ত ব্যবহার করতে পারছিনা।

মাননীয় সাংসদ, আর কত অসহায় ও জুলুমের শিকার হলে আমাদের প্রতি কারো দয়ার উদ্রেক হবে ? আরো কত বছর পার হলে প্রশাসন আমাদের খতিয়ান সৃজনে পদক্ষেপ নিবেন ? আরো কত সময় আমার বৃদ্ধ বাবা-মা বিনা চিকিৎসায় জর্জরিত হলে কারো করুণার দৃষ্টি উদয় হবে ? মাননীয় সাংসদ, আপনি আমাদের অভিভাবক। শুধু একবার ! কেবল একবার যদি আপনার অভিভাবকত্বের জায়গা হতে জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) রামু, মহোদয়কে নির্দেশ দেয়া হয় তবে যা ০৫ বছরে হয়নি তা ৪৮ ঘন্টায় করে দিতে উনারা বাধ্য, কেনানা আমি নিম্ন মধ্যবিত্তের গলার আওয়াজকে উনারা টিপে রাখতে পারলেও আপনার নির্দেশকে উনারা উপেক্ষা করতে পারবেন না- এ আমার বিশ্বাস।

 

আপনার সহযোগীতা প্রত্যাশী

মাহবুবুর রহমান

ঠিকানা: পশ্চিম টেকপাড়া, ওয়ার্ড নং-০৪, কক্সবাজার পৌরসভা,

থানা ও জেলা-কক্সবাজার।

মোবাইল: ০১৮১৮-৯৯২১৩১