View Question 723 views

Subject : অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আবেদন।

Avatar

Written By : Ashfaque Ronnie

মাননীয় সাংসদ,

সালাম জানবেন। আমার প্রাথমিক অভিযোগ আমলে নিয়ে সমস্যার বিস্তারিত জানতে আগ্রহ প্রকাশ করায় আপনাকে  ধন্যবাদ। আমি জেনেছি, আপনি অত্যাচারিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাড়ান। বিপদে আপদে এগিয়ে আসেন। মাননীয় সাংসদ আমি অত্যন্ত আশা নিয়ে আপনার কাছে লিখছি। দয়া করে নিচের অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে আমাদের প্রতি চলমান অন্যায় ও অত্যাচার বন্ধ কল্পে ব্যবস্থা নেবেন।

 আভিযোগ ১জোর পূর্বক চিংড়ি ঘের দখল ও অন্যায়ভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা

অভিযুক্ত ব্যক্তিঃ ফজল কাদের ভুট্টো পিতাঃ হোসেন আলী। ঠিকানাঃ ধমন খালী, ২ নং ওয়ার্ড, বালুখালী।

এই ব্যক্তি ১৯৯৮-২০০০ সাল থেকে  বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের চিংড়ি ঘের দখলের অপচেষ্টা ও হুমকি-ধামকির মাধ্যমে আমার বৃদ্ধ পিতাকে হয়রানি করে আসছেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী সরকার ক্ষমতা গ্রহন করলে ভুট্টোর হয়রানির মাত্রা চুড়ান্ত রুপ ধারন করে।  নিজেকে আওয়ামী লীগের কর্মী ও এম্ পি বদি’র লোক  দাবী করে তিনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। লোকজনকে মারধর, গালাগালি, হুমকি ভুট্টোর প্রতিদিনকার কাজ।    

আমার বৃদ্ধ পিতার অসহাত্বের সুযোগ নিয়ে ভুট্টো ২০০৯ সালের দিকে ৩ কানি জমি দাবী করেন। আমার পিতা  এই অন্যায় দাবীতে সাড়া না দিলে ভুট্টো এক পর্যায়ে আমাদের চিংড়ি ঘেরের ১০ কানির অধিক জমি জোরপূর্বক ভোগ করতে শুরু করেন। ভুট্টোর অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে আমার বৃদ্ধ পিতা বেশ কয়েকবার ভুট্টো ও তাঁর বাহিনীর হাতে অপমানিত ও লাঞ্চিত হন। উপায় অন্তর না পেয়ে আমার বৃদ্ধ পিতা বিভিন্ন সময়ে সার্ভেইয়রের (আমিন) মাধ্যমে জায়গা মেপে তাঁর দাবীর সত্যতা যাচায়ের চেষ্টা করেছেন। দুঃখজনকভাবে আমার বাবা ভুট্টো ও তাঁর বাহিনীর হাতে লাঞ্চিত হন ও মৃত্যুর হুমকি পান।  এমনকি সে ভরা মজলিশে আমাদের বর্গাচাষীদের বেদম মারধরও করেন।

তাঁর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমার বৃদ্ধ পিতা উখিয়া থানায় দুইবার অভিযোগ করেন। দুঃখের বিষয়,  পুলিশ দৃশ্যমান কোন সাহায্য করতে পারেননি। এর পর থেকে ভুট্টো আমাদের বর্গাচাষীদের বিভিন্ন সময়ে চাষ কাজে বাদা দেয়। তাঁর কারনে আমরা অর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হই। তাঁর অন্যায় আচরনের মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌছে যে আমার বৃদ্ধ পিতা অন্যায় অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে কয়েকবার অসুস্থ হয়ে পরেন।  ২০১৪ সালে আমার দুবাই প্রবাসী চাচা ভুট্টোকে সমস্যা সমাধানের অনুরোধ করলে, ভুট্টো আমাদের বাকি জমি তাঁর কাছে বর্গা দিলে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। তাঁর আশ্বাসের ভিত্তিতে, উপায় অন্তর না পেয়ে আমার চাচা  ভুট্টোকে এক বছরের জন্য বাকি জমির অর্ধেক বর্গা দেন।

কিন্তু হায়! বালুখালীর ভুট্টো পাকিস্থানী ভুট্টোর মতো আচরন করে তাঁর আসল চেহারা দেখালো। ভুট্টো তাঁর কথা রাখেননি। ২০১৪ এর পর থেকে তিনি লাগিত বাবদ কোন টাকা্তো পরিশোধ করেনি, উপরন্তু সে আমাদের জায়গা অন্যজনকে বর্গা দিয়ে অর্থ আদায় করছেন। আমি ফোনে তাঁর কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি আমার পরিবারের কাছে টাকা পাবেন দাবী করে উল্টো আমার কাছে টাকা  দাবী করেন। ভুট্টোর দাবীর পক্ষে কোন প্রমান আছে কিনা জিজ্ঞেস করলে ভুট্টো কোন ধরনের প্রমান হাজির করতে ব্যার্থ হন। আমি বার বার তাঁকে আমাদের জায়গা ছাড়ার অনুরোধ করি। আমার চাচা সহ পরিবারের সদস্যগণ অনুরোধ করে। কে শুনে কার কথা। ভুট্টো আমাদের অনুরোধের  প্রতি কোন রকমের কর্নপাত না করে আমাদের জমিতে ভোগ দখল অব্যাহত রাখবেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

অভিযোগ ২-  অবৈধ অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনীর নিয়ে দোকান সহ জায়গা দখল ও ভাংচুর  

অভিযুক্ত ব্যাক্তিঃ নুরুল হক। পিতাঃ মৃত জালাল আহমদ। ঠিকানাঃ রাজাপালং, উখিয়া।  

 ১৯৮১ সালে আমার পিতা উখিয়া সাব রেজিস্ট্রি অফিসের বিপরীত পাশে ০.১৫ একর জায়গা কিনা। কিনার পর থেকে আমার পিতা জায়গাটি ভোগ করে আসছিলেন এবং এক পর্যায়ে দোকান নির্মান করেন। কিন্তু হঠাৎ করে নুরুল হক নামের এক দাগী ভুমি দস্যু্র আগমন। আমাদের জমিতে তাঁর ৬ শতক জমি দাবী করে সে আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করে। আমার বাবা পুলিশের কাছে যান। পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করেন। ১৪৪ ধারা দিয়েও নুরুল হক কে থামানো জায়নি। ক্ষমতাধর নুরুল হক তাঁর অবৈধ অস্ত্র সজ্জিত দলবল নিয়ে ১৪৪ ধারা অমান্য করে আমাদের তিনটি দোকান সহ ০.১৫ একর জায়গা দখল করে নেয়। আমার বৃদ্ধ পিতা অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাঁর ৩০ বছর ভোগ করে আসা সম্পত্তি দখলের দৃশ্য দেখলো আর চোখের পানি ফেললো। কেউ এগিয়ে আসেনি মাননীয় সাংসদ।  

নুরুল হক শুধু আমার বাবার জমি দখল করে থেমে থাকেনি। সে আমাদের পাশে, সৌদি প্রবাসী আমির হোসেনের দালান সহ জমিও দখল করে নেন। মাননীয় সাংসদ হায়েনা যখন একবার রক্তের স্বাদ পায় সে আর থেমে থাকেনা। নুরুল হকও থেমে থাকেনি। যতটুকু জেনেছি নুরুল হক একের পর এক জমি অবধৈভাবে দখল করে যাচ্ছে। সময়ে অসময়ে ভুক্তভুগিদের হুমকি ধামকি দিচ্ছে। থানায় তাঁর নামে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু কোন লাভ হচ্ছে না।  

 মাননীয় সাংসদ, পর পর দুটো দখলের ঘটনার পর আমার বাবা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পরেন। অসহায়ের মত এর কাছে ওর কাছে গিয়ে বিচার চান। জুলুম সহ্য করতে না পেরে তিনি এক পর্যায়ে স্ট্রোক করেন। আমরা আমদের শক্ত সামর্থ পিতা চুড়ান্তভাবে ভেঙ্গে পড়েন। বর্তমানে তিনি পার্শিয়ালী প্যারালাইজড মাননীয় সাংসদ। উনার শারেরীক ও মানসিক অবস্থা এতই সংকাপন্ন যে উনি যে কোন সময় আমাদে ছেড়ে বিদায় নিতে পারেন।  আমার বাবাকে দেখাশোনার জন্য আমার মা তাঁর ৪০ বছরের প্রিয় চাকরি থেকে আগাম অবসরগ্রহন করতে বাধ্য হন। এমনকি আমার উচ্চ শিক্ষিত দুটো বোন তাদের পড়াশোনার ক্ষতি করে আমার অসুস্থ পিতাকে সেবা করার জন্য ঢাকা ছেড়ে কক্সবাজার অবস্থান করছেন। 

আমি তাঁর এক মাত্র ছেলে। একযুগেরও বেশি সময় ধরে ইংল্যান্ডে বসবাস করছি। চোখের সামনে বৃদ্ধ পিতার প্রতি এহেন অন্যায় দেখে আমি আর চুপ থাকতে পারছিনা। আমার বাবার বর্তমান অবস্থার জন্য নুরুল হক ও ভুট্টো দায়ী। মাননীয় সাংসদ আমি আপনার কাছে এসবের বিচার চাই। আমি বিশ্বাস করি একজন বিবেকবান মানুষ হিসেবে, উখিয়া-টেকনাফের অভিবাবক হিসেবে আপনি আমাদের প্রতি চলমান অন্যায় ও অত্যাচারের বিচার করবেন। আমি অত্যন্ত আশা নিয়ে আপনার কাছে লিখছি। আমি বিশ্বাস করি আপনি আমাদের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রতি চলমান অন্যায় ও অত্যাচারের সমাপ্তি ঘটাবেন।

ইতি, 

আশফাক রনি। 

লন্ডন, যুক্তরাজ্য। 

Avatar

Written By : Ashfaque Ronnie

Public

এম পি মহোদয় আমার অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। তিনি কথা দিয়েছেন আমার সমস্যা সমাধানে তিনি যথাযত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। এমপি মহোদয়ের এহেন দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। 

আশফাক রনি। 

লন্ডন, যুক্তরাজ্য।